জাপানে যেতে কত টাকা লাগে সরকারি ভাবে জাপানের যাওয়ার উপায়

জাপানে যেতে কত টাকা লাগে সরকারিভাবে জাপানের যাওয়ার উপায় সম্পর্কের জানার আগ্রহ সবার মধ্যে আছে। বিশেষ করে যারা বাইরের দেশে চাকরি করতে চান তাদের মধ্যে আগ্রহ বেশি রয়েছে।

জাপানে-যেতে-কত-টাকা-লাগে
আমাদের লেখা আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়লে জাপানে যাওয়ার খরচ ও সরকারিভাবে যাওয়ার উপায় সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাবেন। আপনারা যদি জাপানের যাওয়ার সঠিক নিয়ম ও চাকরি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে চান তাহলে আমাদের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।

পেজ সূচিপত্রঃ সরাকারি উপায়ে জাপানে যেতে যাচ্ছেন তার  আগে জেনে নিন প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো

জাপান যেতে কত টাকা লাগে সরকারি ভাবে যাওয়ার উপায়

জাপানকে সূর্যোদয়ের দেশ বলা হয়। জাপান অর্থনৈতিক দিক থেকে খুবই উন্নত। জাপান বিশ্বের তৃতীয় অর্থনৈতিক বৃহত্তম দেশ। জাপান প্রযুক্তি নির্ভর এবং আধুনিক। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই জাপানে যেতে আগ্রহী। জাপানে যেতে হলে অবশ্যই সরকারি উপায়ে জাপান যাওয়া সম্পর্কে জানতে হবে। সরকারি উপায়ে জাপান যাওয়ার খরচ খুবই কম এবং নিরাপদ।

আরো পড়ুনঃ গরমে ডাবের পানির উপকারিতা সম্পর্কে জানুন 

সরকারিভাবে জাপান যাওয়া নির্ভর করবে আপনার যাতায়াতে মাধ্যমের উপর। যেমন ধরেন ঘুরতে উদ্দেশ্যে জাপানে যেতে চাইলে ভিসা খরচ, বিমান ভাড়া, থাকা খাওয়া খরচ লাগবে। আর আপনি যদি কাজের ভিসায় জাপান যেতে চান তাহলে চাকরির খরচ, প্রশিক্ষণ খরচ, ভাষায় দক্ষতা অর্জনের প্রস্তুতি ইত্যাদি নিতে হবে যা তুলনামূলকভাবে বেশি খরচ। আসুন জেনে নিই সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার কিছু সহজ উপায়:

চাকরি: জাপান সরকার জনশক্তি চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করছে। 

যোগ্যতা: নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্ধারিত দক্ষতার পরীক্ষা এবং জাপানি ভাষার বা উচ্চতর লেভেলের পরীক্ষা পাস করতে হবে।

প্রক্রিয়া: জাপান ভিত্তিক একটি কোম্পানি থেকে চাকরির প্রস্তাব পেতে এবং নিজের যোগ্যতা প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

স্কলারশিপ: যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য জাপানে যেতে চান তাদের জন্য এটি বড় একটি সুযোগ। জাপানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করলে বিভিন্ন স্কলারশিপ পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে জাপানে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে গেলে কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। 

বাংলাদেশ থেকে জাপানে যেতে কত টাকা লাগে

বাংলাদেশ থেকে জাপানে যেতে কত টাকা খরচ পড়বে তা নির্ভর করবে আপনি কি উদ্দেশ্যে জাপানে যাচ্ছেন, চাকরির উদ্দেশ্যে ভ্রমণ না পড়াশোনার উদ্দেশ্যে। এবং আপনার যাতায়াত পদ্ধতির ওপরে। তবে পর্যটনদের জন্য বাংলাদেশ থেকে জাপানে যেতে খরচ হবে ৯০,০০০ হাজার থেকে ১,৮০,০০০ হাজার টাকার মতো। যেখানে থাকা খাওয়া এবং অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আসুন জেনে নিই বাংলাদেশ থেকে জাপান যেতে কোন কোন খাতে কি রকম খরচ হবে:

জাপান-যাওয়ার-সহজ-উপায়ভিসা ফি: জাপানি ভিসা প্রসেসিং ফি-এর জন্য সাধারণত ৩,০০০ টাকা লাগতে পারে, তবে একি ট্যুর অপারেটর বা ট্রাভেল এজেন্সির উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।

বিমান টিকিট: বাংলাদেশ থেকে জাপানে বিমান টিকিটের খরচ কয়েক হাজার টাকা হতে পারে, যা বিমানের ধরন ও সময়ের উপর নির্ভর করে।

পর্যটনদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ খরচ

থাকা ও খাওয়া: জাপানে ৭ দিনের জন্য থাকা খাওয়ার খরচ সাধারণত ১,০০,০০০ টাকা থেকে ১,৫০,০০০ টাকা হতে পারে।

যাতায়াত খরচ: জাপানে যাতায়াতের জন্য পরিবহন খরচ বাবদ মাসিক ৭,৫০০ টাকা থেকে ১১,৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। 

অন্যান্য খরচ: স্থানীয় পরিবহন, কেনাকাটা এবং অন্যান্য পর্যটন সংক্রান্ত খরচও এতে যুক্ত হবে।

বাংলাদেশ থেকে জাপানে যাওয়ার অন্যান্য উপায় এবং খরচ

চাকরির উদ্দেশ্যে: জাপান সরকার বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দক্ষ কর্মী আমদানি করছে। তবে জাপানে থাকা ও কাজ করার ক্ষেত্রে, আপনি মাসিক ৪৫,০০০ টাকা থেকে ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাসা ভাড়ার জন্য এবং ২২,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা খাবারের জন্য খরচ করতে পারেন।

স্কলারশিপ ও পড়াশোনার জন্য: জাপানে পড়াশোনা করে স্কলারশিপ পেলে খরচ কিছুটা কম লাগে, তবে টিউশন ফি এবং থাকা খাওয়ার খরচ বাবদ বছরে ৩,৫০,০০০ টাকা থেকে ১১,০০,০০০ টাকার বা তার বেশি খরচ হতে পারে।

জাপানি ভাষা শেখার খরচ: জাপানে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই জাপানি ভাষায় কথা বলা শিখতে হবে, সেক্ষেত্রে আপনাকে জাপানি ভাষায় একটি কোর্সে ভর্তি হতে হবে। একটি জাপানি ভাষার কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য আপনার ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকার মতো খরচ হবে।

জাপানে যেতে হলে কি ধরনের যোগ্যতার প্রয়োজন

জাপান অর্থনৈতিক দিক থেকে একটি উন্নত দেশ। জাপানে যেতে হলে অবশ্য আপনাকে আগে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে হবে। জাপানে যাওয়ার যোগ্যতা নির্ভর করবে আপনার উদ্দেশ্যের উপর। কি উদ্দেশ্যে জাপানে যেতে চান কাজের উদ্দেশ্যে, পড়াশোনার উদ্দেশ্যে না ভ্রমণের উদ্দেশ্যে। উদ্দেশ্য অনুযায়ী আপনাকে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ খালি পেটে শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা  

তবে সাধারণত সরকারিভাবে টেকনিক্যাল ইন্টান বা দক্ষ কর্মী হিসেবে যেতে হলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এর অধীনে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা পাস করতে হবে। এছাড়াও আপনাকে ১৮ বছর বয়সী হওয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। এবং কেনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকতে হবে।

কাজের উদ্দেশ্য এবং দক্ষ শ্রমিক

ভাষাগত দক্ষতা: সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার বা টিটিসি থেকে জাপানি ভাষা শিখতে হবে, সর্বনিম্ন স্তর বা মৌলিক স্তর জাপানি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। 

শারীরিক ও মেধাবৃত্তিক পরীক্ষা: ভাষা ও শারীরিক সক্ষমতা বিষয়ক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। 

প্রি- ডিপার্চার ট্রেনিং: ভাষা ও শারীরিক সক্ষমতা বিষয়ক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর বুড়ো এর অধীনে ৬ মাস মেয়াদী প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিং সম্পূর্ণ করতে হবে।

বয়স ও স্বাস্থ্য: জাপানে যেতে চাইলে কমপক্ষে আপনার বয়স ১৮ বছর বয়সী হতে হবে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।

দক্ষতা: আপনি যে পেশায় কাজ করবেন সে পেশার জন্য  প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং পূর্বে কোন প্রশিক্ষণ না পেয়েও কাজ শুরু করার সক্ষমতা থাকতে হবে। 

ভিসার প্রকারভেদ ও সাধারণ যোগ্যতা

জাপানে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভিসা রয়েছে। আপনি কোন উদ্দেশ্যে জাপানে যেতে চাচ্ছেন সেই উদ্দেশ্যে ভিসা তৈরি করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ভিসা রয়েছে যেমন: ওয়াকিং, স্টুডেন্ট, টুরিস্ট যার প্রত্যেকটির নিজের যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া রয়েছে।

  1. পাসপোর্ট: সাত মাসের বৈধতা থাকা একটি নতুন বা পুরনো পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।
  2. ছবি: নির্দিষ্ট মাপের (২*১.৪ ইঞ্চি) দুটি ছবি জমা দিতে হবে। 
  3. অন্যান্য তথ্য : নিজ জাতীয় পরিচয় পত্র, অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম, এবং কি উদ্দেশ্যে জাপানে যেতে যাচ্ছেন সেই উদ্দেশ্য নিয়ে একটি কাভার লেটার জমা দিতে হবে।

জাপান যাওয়ার নতুন নিয়ম

জাপান যাওয়ার নতুন নিয়ম মূলত ভিসা প্রক্রিয়া এবং কিছু অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়মাবলীকে বলে। ১ লা এপ্রিল ২০২৫ থেকে কিছু অভিবাসন আবেদনের ফি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ কাগজপত্র গুলোর মধ্যে রয়েছে দুই কপি সাম্প্রতিক ছবি, পাসপোর্ট, এপ্লিকেশন ফর্ম এবং জাপান ভ্রমণের বিস্তারিত পরিকল্পনা। এছাড়াও নির্দিষ্ট দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যেতে চাইলে দক্ষতা পরীক্ষা এবং জাপানি ভাষার দক্ষতা পরীক্ষার উত্তীর্ণ হতে হয়।

পর্যটকদের জন্য নতুন নিয়ম

তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত কেনাকাটার অবসান: জাপানে পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় শুল্ক মুক্ত কেনাকাটার ব্যবস্থা ২০২৫ সাল থেকে বাতিল করা হবে।

দ্বিগুণ বা দুই অংশ মূল্য নির্ধারণ: দেশীয় এবং বিভিন্ন দেশের  দর্শনার্থীদের জন্য ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করা হবে। 

ইলেকট্রনিক ভিসা অনুমোদন: জাপানে যাওয়ার জন্য নতুন একটি ইলেকট্রনিক ভিসার ব্যবস্থা চালু হবে।

উচ্চ প্রবেশ ফ্রি: জাদুঘর, মন্দির, রিসোর্ট সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রবেশ ফি নতুন করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। 

শ্রমিকদের জন্য কাজের নতুন নিয়ম

নিজ কাজে দক্ষতা ও ভাষার পরীক্ষা: নির্দিষ্ট দক্ষ শ্রমিক হিসেবে জাপানে কাজ করতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে দক্ষতার পরীক্ষা এবং জাপানি ভাষার দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

বিশেষ ক্ষেত্র: কারিগরি ইন্টান প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন এই পরীক্ষা থেকে অব্যাহত হতে পারেন।

জাপানে যাওয়ার প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ

জাপানি ভাষা শিক্ষা: জাপানে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে জাপানি ভাষার প্রস্তুতি নিতে হবে, কারণ যে দেশে আপনি পড়াশোনা বা কাজের উদ্দেশ্যে যাবেন সে দেশের ভাষা শেখা থাকলে কাজ ও পড়াশোনার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

ভিসা তৈরির প্রস্তুতি: ভিসার জন্য আবেদন করতে পাসপোর্ট ছবি ভ্রমণের পরিকল্পনা বা কাজের কাজের উদ্দেশ্য এবং নিজের পরিচয় নিয়ে একটি কভার লেটার তৈরি করতে হবে।

সরকারিভাবে যোগাযোগ: সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার সুযোগ সুবিধা ও বিস্তারিত জানতে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা সম্পর্কিত সরকারি সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

জাপান যাওয়ার সহজ উপায়

জাপান অর্থনৈতিক দিক থেকে উন্নয়ন ও পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হওয়ার কারণে অনেকে বাংলাদেশী স্টুডেন্ট, শ্রমিক এবং পর্যটকদের বড় স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে জাপানে যাওয়া। আমাদের অনেকেরই মনে হয় জাপানে যাওয়া অনেক কঠিন কাজ। তবে আপনি যদি সঠিক তথ্য অবলম্বন করেন তাহলে একটি সহজ হবে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে জাপানে যাওয়ার সহজ মাধ্যম হলো জাপান স্টুডেন্ট ভিসা। জাপান সরকার বিভিন্ন দেশের স্টুডেন্টের জন্য উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা এবং স্কলারশিপ প্রোগ্রাম অফার দিয়ে থাকে।

আরো পড়ুনঃ ড্রাগন ফল খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে  

জাপানে যদি আপনি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যেতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে এবং ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এর পাশাপাশি জাপান দক্ষ শ্রমিকদের জন্য কাজের ভিসার সুযোগ করে দিয়েছে। এজন্য সর্বপ্রথম আপনাকে কোন জাপানি কোম্পানি বা এজেন্সির সহায়তায় নিজদক্ষের ওপর চাকরির অফার নিতে হবে। এক্ষেত্রে কাজের ধরন অনুযায়ী এজেন্সি বা জাপান কোম্পানি আপনাকে ভিসা প্রসেসিং করতে সাহায্য করবে। 

জাপানে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের অবশ্যই জাপানি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। আপনি যদি জাপানি ভাষায় দক্ষ না হন তবে আপনি ভিসা অথবা কাজের ভিসা কোনটাই পাবেন না। জাপানে যাওয়ার ইচ্ছা এবং যোগ্যতা থাকলে নিজস্ব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করে আপনি নিজে নিজেই ভিসা প্রসেসিং করতে পারবেন।

জাপানে কোন কাজের চাহিদা বেশি?

পৃথিবীর বৃহত্তম দেশের মধ্যে জাপান একটি শান্তিময় ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেশ। আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে জাপানে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে চান তাহলে আপনাকে সর্বপ্রথম জানতে হবে জাপানে কোন কাজের চাহিদা অনেক বেশি। জাপান অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তির দিক থেকে বেশ উন্নত হওয়ায় জাপানের যে কাজগুলো চাহিদা বেশি সেগুলো হলো: প্রযুক্তি, অর্থ, অটোমোটিভ, ইলেকট্রনিক্স, রোবটিক্স, নার্সিং এবং কেয়ার গিভার। 

এবং সাধারণ শ্রমিকদের জন্য রয়েছে বেশ কিছু কাজের সুবিধা যেমন: প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, কনস্ট্রাকশন শ্রমিক, পেইন্টার, প্যাকেজিং কর্মী, ক্লিনার, ফ্যাক্টির শ্রমিক, ড্রাইভিং, কৃষি শ্রমিক, ডেলিভারি সার্ভিস ইত্যাদি জাপানে এসব কাজের চাহিদা অনেক বেশি। আপনি যদি জাপানি ভাষার দক্ষতা ভালো থাক জাপানে ভালো বেতন ও স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। 

অধিক চাহিদা সম্পন্ন খাত ও পেশা

প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং: অটোমোটিভ, ইলেকট্রনিক্স, এবং রোবটিক্স এর মত উচ্চ চাহিদাযুক্ত শিল্পে বিশ্বব্যাপীর নেতৃত্ব ধরে রাখতে জাপানে অটোমোটিভ, ইলেকট্রনিক্স এবং রোবোটিক্স শিল্পের নিয়োগ কার্যক্রম সচল রয়েছে। 

অর্থ ও ব্যবস্থাপনা: অর্থ এবং নির্বাহী নেতৃত্বে ভূমিকা জাপানের সর্বোচ্চ বেতনের চাকরিগুলির মধ্যে অন্যতম।

নার্সিং ও কেয়ার গিভার: জাপানে বয়স্কদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নার্সিং এবং কেয়ার গিফারদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। 

অন্যান্য: জাপানে একটি ভাষাকে অন্য ভাষায় রূপান্তরিত করতে পারে এমন ব্যক্তি এবং একজন ব্যক্তির দুটি ভাষায় দক্ষ এমন পেশার ব্যক্তিদের জাপানে কাজের চাহিদা বেশি রয়েছে।

জাপানে কোন কাজের বেতন বেশি?

জাপান অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশ উন্নত এবং প্রযুক্তি নির্ভর দেশ। জাপানে বিভিন্ন পেশার কাজ রয়েছে কিন্তু আমরা অনেকেই জানতে চাই জাপানে কোন কাজে সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া যায়। জাপানে যেসব কাজের সর্বোচ্চ বেসন পাওয়া যায় সেগুলো হলো: সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, এম এল ইঞ্জিনিয়ারিং, সেমিকন্ডাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষক এবং  ব্যাংকিং। 

উচ্চ বেতনের কিছু পেশার ব্যাখ্যা

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এমএল ইঞ্জিনিয়ারিং: ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্র গুলোতে দক্ষ এবং অভিজ্ঞ পেশাদারদের জন্য উচ্চ বেতন নির্ধারণ করে, বিশেষ করে যারা এআই এবং মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করেন। 

সেমিকন্ডাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং: সেমিকন্ডাক্টর শিল্পীর চাহিদা এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এই ক্ষেত্রে ভালো বেতন পাওয়া যায়।

এক্সিকিউটিভ ম্যানেজমেন্ট: একজন সিইও বা সিএফও হিসেবে আপনি সবচেয়ে প্রভাবশীল এবং সর্বোচ্চ বেতনের চাকরি গুলোর মধ্যে একটি পাবেন।

ব্যাংকিং: জাপানে ব্যাংকিং পেশার বেতন বেশ ভালো। একজন ব্যাংকারের বার্ষিক বেতন ২,৪১১,৫০০ থেকে ৭,৪৭৭,১০০ জাপানি ইয়েন পর্যন্ত হতে পারে। 

বেতন নির্ভর করে 

অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা: যে কোন পেশায় কাজ করতে হলে আপনার সে পেশার ওপর অভিজ্ঞতা থাকলে তার বেতন বেশি হবে। 

কোম্পানির আকার ধরুন: বড় ও বহু জাতি কোম্পানিগুলোতে বেতন সাধারণত বেশি হয়। 

শহরের অবস্থান: টোকিও এর মত বড় শহরগুলোতে বেতন বেশি আবার কৃষি খাতের মতো কিছু সেক্টর বেতন কম হতে পারে।

 জাপানে বাংলাদেশী শ্রমিকদের বেতন কত?

প্রতিটি কাজের বেতন নির্ধারণ করা হয় তার যোগ্যতা এবং  অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে। একজন ব্যক্তির যোগ্যতায় তার কাজের বেতন নির্ধারণ করে দেয়। তার যোগ্যতা যত বেশি হবে তার বেতন তত বেশি হবে। তবে জাপানে বাংলাদেশী শ্রমিকদের বেতন নির্দিষ্ট নয় কারণ এটি তার কাজের ধরন অভিজ্ঞতা ও এলাকার ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। 

 থেকে যারা জাপানি কেয়ার বিভাগ পেশার শ্রমিক হিসেবে চাই তাদের মাসিক বেতন কমপক্ষে ২,৫০,০০০ থেকে ৩,৫০,০০০ ইয়েন হতে পারে। আর বাংলাদেশী কৃষি শ্রমিকদের প্রথম অবস্থায় মাসিক বেতন ১,৮০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ ইয়েন হতে পারে আবার যদি আপনার ৫ বছরের পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে থাকে তাহলে আপনার মাসিক বেতন ৩,৫০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০ ইয়েন পর্যন্ত হতে পারে। 

শ্রমিকদের বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিষয়

কাজের ক্ষেত্র ও অভিজ্ঞতা: নার্সিং, কৃষি, নির্মাণ ইত্যাদি বিভিন্ন খাতে বেতনের পার্থক্য দেখা যাই। কাজের অভিজ্ঞতা যত বেশি হবে, আপনার বেতন তত বেশি হবে। 

শহর: টোকি ওর মতো বড় শহরগুলো খরচ বেশি হয়  সাধারণত বেতনও বেশি হয়। তাই অনেক সময় শহর অনুযায়ী অনেক সময় বেতন নির্ধারণ করা হয়। 

জাপানি ভাষা: আপনি যদি জাপানি ভাষায় দক্ষ হন তাহলে আপনি ভালো বেতনের চাকরি খুন সহজে পাবেন।

বেতন ভাতার আনুমানিক উদাহরণ

নার্সিং: জাপানে কেয়ারগিভার শ্রমিকদের মাসিক বেতন গড়ে ২,৫০,০০০ থেকে ৩,৫০,০০০ ইয়েন। 

কৃষি খাত: কৃষি কাজে আপনার যদি কোনরকম অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে আপনার নতুন অবস্থায় মাসিক বেতন ১,৮০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ ইয়েন। আর আপনার যদি পূর্বে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে থাকে আপনি মাসিক ৩,৫০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০ ইয়েন বেতন পাবেন।

 প্রয়োজনীয় কিছু টিপস

  1. জাপানে কাজ শুরু করার অবশ্যই আপনাকে আগে খরচ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া দরকার।
  2. আপনি যদি কাজের উপর পূর্ব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থেকে থাকে তাহলে উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো সম্ভব।
  3. জাপানে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

লেখক এর শেষ কথা: সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার উপায় সম্পর্কে আলোচনা

জাপানে যাওয়া প্রায় সবারই বড় একটি স্বপ্ন হয়ে উঠেছে। কারণ জাপান অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বেশ উন্নত এবং প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক দেশ। বেশ করে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই জাপানে যেতে বেশ আগ্রহী। তবে জাপানে যাওয়ার আগে সরকারিভাবে এবং সহজ উপায়ে জাপানে যাওয়ার বিশেষ কিছু উপায় এবং কৌশল সম্পর্কে আমাদেরকে জানতে হবে। জাপানের যাওয়ার বেশ কিছু মাধ্যম রয়েছে যেমন: স্টুডেন্ট ভিসায়,  এজেন্সির মাধ্যমে, শ্রমিক ভিসায়। তবে জাপানে যাওয়ার আগে আমাদেরকে জাপান সম্পর্কে জানতে হবে। 

তাই আমরা আমাদের আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি কিভাবে জাপানে যেতে হয়, জাপানি যাওয়ার জন্য কেমন যোগ্যতার প্রয়োজন, জাপানি কোন কাজের বেতন বেশি কোন কাজের চাহিদা বেশি, বাংলাদেশী শ্রমিকদের কত ইত্যাদি সকলকে আলোচনা করেছি। আপনারা যদি আমাদের আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাহলে অবশ্যই জাপানে যাওয়ার সহজ মাধ্যম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। জাপানে যাও যদি আপনার একটু বড় স্বপ্ন হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের আর্টিকেলটি মনের সহকারে করুন। জাপানি যেতে চাইলে আগে আপনাকে জাপান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে। 

বিশেষ করে আপনাকে জাপানি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। জাপান যাওয়ার খরচ নির্ভর করবে আপনার যাতায়াতের মাধ্যম এর ওপর এবং কি উদ্দেশ্যে আপনি জাপানে যেতে চাচ্ছেন। প্রিয় বন্ধুগণ আশা করছি আমাদের আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের জাপানে যাওয়ার উদ্দেশ্য সফল এবং সহজ হবে। আর আমাদের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের কাছে তথ্য নির্ভর হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন। আপনি যদি আরও এরকম তথ্য নির্ভর আর্টিকেল পেতে চান তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের সঙ্গে থাকুন ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। 








 




 


 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মেনি অল ইনফর্মেশন বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url